দুদিনে লোপাট ৫০০০ গাছ, আদানিদের কাণ্ডে নিশ্চুপ বিজেপি সরকার, প্রতিবাদীদেরই জেলে পুরল পুলিশ
পলাশ মুখোপাধ্যায়
নানান খবরের মাঝে প্রায় চাপাই পড়ে গিয়েছিল এই খবরটি। মূল ধারার সংবাদ মাধ্যম দেখাতেই চায়নি এই খবর। ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলার তামনার তহসিলের মুদাগাঁও ও সরাইটোলা গ্রামে মাত্র দু’দিনে (২৬ ও ২৭ জুন) কাটা হয়েছে অন্তত ৫,০০০ গাছ। মহারাষ্ট্রের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা MAHAGENCO-র জন্য আদানি গোষ্ঠী পরিচালিত গারে পলমা সেক্টর-২ কয়লাখনির জন্য এই উজাড় অভিযান চালানো হয় বলে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন। এক লহমায় ফিরে আসি ঘরের পাশে। কলকাতা থেকে বারাসত হাবড়া বনগাঁ হয়ে পেট্রাপোল সীমান্ত পর্যন্ত জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ হওয়া অবিলম্বে প্রয়োজন। কিন্তু এই রাস্তা চওড়া করবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণের মধ্যে একটি উল্লেখ যোগ্য অসুবিধে হল যশোর রোডের পাশে থাকা সুবিশাল গাছগুলি। এই গাছ কেটে রাস্তা সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছেন অনেকেই। বিষয়টা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। পাশাপাশি বারাসত থেকে হাসনাবাদ, ভায়া বসিরহাট পর্যন্ত টাকি রোড সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে গত বছর। রাস্তার দু’পাশের গাছ কাটা হয়েছে বহু আগেই। কিন্তু গাছ কোথায় কত লাগানো হয়েছে, আদৌ হয়েছে কি না— তা নিয়ে সেই একই ধোঁয়াশা! বন দফতর সূত্রের খবর, সম্প্রসারণের জন্য বারাসত থেকে দেগঙ্গা পর্যন্ত টাকি রোডের কুড়ি কিলোমিটার অংশে ১৫১৪টি গাছা কাটা হয়েছিল। যার মধ্যে মেহগনি ছাড়াও ছিল প্রাচীন আম, বট, অশ্বত্থ, নিম, শিরীষ, হিমঝুরির মতো গাছ। ২০১৯ সালের আগে একাধিক ঠিকাদার সংস্থা এই গাছ কেটেছে। সে সময়ে জেলা প্রশাসনের তরফে সংস্থাগুলির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোথায় তারা বিকল্প বৃক্ষরোপণ করবে। সূত্রের খবর, সেই উত্তর আজও প্রশাসনের হাতে এসে পৌঁছয়নি। অর্থাৎ গাছ কেটে ফেলা হলে আর লাগানোর নিয়ম কেউই মানেন না। সেই ভয়েই অসুবিধা হচ্ছে জেনেও যশোর রোডের ধারের গাছগুলি কাটতে দিতে চান না সাধারণ মানুষ। এ রাজ্যে গাছ কাটা হয় না এমন নয়, সুন্দর বনে চুপিসাড়ে গাছ কেটে সেখানে হোটেল রিসোর্ট তৈরি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এক লহমায় পাঁচ হাজার গাছা কেটে ফেলা মানে একটা অরণ্যকে ধ্বংস করে দেওয়া। সরকারি মদতে এটা সম্ভব!
কয়লা উত্তোলনের জন্য ছত্তিশগড়ে রায়গড় জেলার ২৫৮৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এই জমির মধ্যে রয়েছে ২১৫ হেক্টর বনভূমি। আনুমানিক ৬৫৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা পাওয়া যাবে এখানে। আর এই কয়লা ব্যবহার হবে মহারাষ্ট্রের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আদানিদের অধীন। মহাজেন কো-নামের এই কোম্পানির জন্য ছত্তিশগড়ে বনভূমি সাফ করার কাজ চলছে। স্থানীয়দের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে গাছ কাটা শুরু হয়। ১৪টি গ্রাম প্রভাবিত হয়েছে এই কয়লা প্রকল্পের জন্য। মানবাধিকার সংগঠন ‘ছত্তিশগড় অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিস অ্যান্ড ইকুয়ালিটি’ এক প্রেস বার্তায় জানিয়েছে ২৬ জুন প্রায় দু’হাজার পুলিশ এবং মহাজেনকোর-কর্মীরা গ্রাম ঘিরে ফেলে। যেসব পরিবেশবিদ প্রতিবাদ করছিলেন তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক বিদ্যাবতী সিদার, প্রখ্যাত লেখিকা ও পরিবেশকর্মী রিনচিন প্রমুখ। বিভিন্ন থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য এখান থেকে কয়লা সরবরাহ করা হবে। ৭,৬০০ কোটি টাকার এই প্রজেক্টে ১৭০০ পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়বে। আর সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে আদিবাসীদের জীবনপ্রবাহ। এতগুলি গাছ একসঙ্গে কেটে ফেললে পরিবেশেও তার প্রভাব পড়বে যথেষ্ট। কিন্তু কেন্দ্র ও দু’টি রাজ্যের বিজেপি সরকার আদানিদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রীবৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ায় অন্য কিছুই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না। বনবাসীদের জীবন জীবিকা রক্ষা কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে চিন্তিত নয় বিজেপি সরকার।
এই সব এলাকায় এক সময় মাওবাদীরা সশস্ত্র আন্দোলন করত বনভূমি রক্ষায়। যার ফলে অরণ্য ধ্বংসের চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযান চালিয়ে তাদের প্রায় নিকেশ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এই জন্যই কি কেন্দ্রের এবং রাজ্যের বিজেপি সরকার মাওবাদীদের খতম করতে এত উদ্যোগী হয়েছে। নয় তো এত দিন ধরে এই এলাকাগুলি মাওবাদী প্রভাবিত থাকলেও কেন্দ্র এমন মরনপণ অভিযান আগে চালায়নি। ২০১৭ সাল থেকে এই বনভূমি রক্ষার জন্য আন্দোলন করে চলেছেন বনবাসী ও আদিবাসীরা। কিন্তু বনবাসীদের জীবন জীবিকা রক্ষা কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে চিন্তিত নয় বিজেপি সরকার। ১৪টি গ্রামের গ্রাম-পঞ্চায়েতের কেউই এনওসি দেয়নি জঙ্গল সাফ করার জন্য, তবুও জোর করে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ফরেস্ট রাইট অ্যাক্ট ২০০৬-কে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করা হচ্ছে। সবই চলছে সরকারী মদতে সরকারের দ্বারা।
নানান খবরের মাঝে প্রায় চাপাই পড়ে গিয়েছিল এই খবরটি। মূল ধারার সংবাদ মাধ্যম দেখাতেই চায়নি এই খবর। ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলার তামনার তহসিলের মুদাগাঁও ও সরাইটোলা গ্রামে মাত্র দু’দিনে (২৬ ও ২৭ জুন) কাটা হয়েছে অন্তত ৫,০০০ গাছ। মহারাষ্ট্রের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা MAHAGENCO-র জন্য আদানি গোষ্ঠী পরিচালিত গারে পলমা সেক্টর-২ কয়লাখনির জন্য এই উজাড় অভিযান চালানো হয় বলে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন। এক লহমায় ফিরে আসি ঘরের পাশে। কলকাতা থেকে বারাসত হাবড়া বনগাঁ হয়ে পেট্রাপোল সীমান্ত পর্যন্ত জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ হওয়া অবিলম্বে প্রয়োজন। কিন্তু এই রাস্তা চওড়া করবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণের মধ্যে একটি উল্লেখ যোগ্য অসুবিধে হল যশোর রোডের পাশে থাকা সুবিশাল গাছগুলি। এই গাছ কেটে রাস্তা সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছেন অনেকেই। বিষয়টা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। পাশাপাশি বারাসত থেকে হাসনাবাদ, ভায়া বসিরহাট পর্যন্ত টাকি রোড সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে গত বছর। রাস্তার দু’পাশের গাছ কাটা হয়েছে বহু আগেই। কিন্তু গাছ কোথায় কত লাগানো হয়েছে, আদৌ হয়েছে কি না— তা নিয়ে সেই একই ধোঁয়াশা! বন দফতর সূত্রের খবর, সম্প্রসারণের জন্য বারাসত থেকে দেগঙ্গা পর্যন্ত টাকি রোডের কুড়ি কিলোমিটার অংশে ১৫১৪টি গাছা কাটা হয়েছিল। যার মধ্যে মেহগনি ছাড়াও ছিল প্রাচীন আম, বট, অশ্বত্থ, নিম, শিরীষ, হিমঝুরির মতো গাছ। ২০১৯ সালের আগে একাধিক ঠিকাদার সংস্থা এই গাছ কেটেছে। সে সময়ে জেলা প্রশাসনের তরফে সংস্থাগুলির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোথায় তারা বিকল্প বৃক্ষরোপণ করবে। সূত্রের খবর, সেই উত্তর আজও প্রশাসনের হাতে এসে পৌঁছয়নি। অর্থাৎ গাছ কেটে ফেলা হলে আর লাগানোর নিয়ম কেউই মানেন না। সেই ভয়েই অসুবিধা হচ্ছে জেনেও যশোর রোডের ধারের গাছগুলি কাটতে দিতে চান না সাধারণ মানুষ। এ রাজ্যে গাছ কাটা হয় না এমন নয়, সুন্দর বনে চুপিসাড়ে গাছ কেটে সেখানে হোটেল রিসোর্ট তৈরি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এক লহমায় পাঁচ হাজার গাছা কেটে ফেলা মানে একটা অরণ্যকে ধ্বংস করে দেওয়া। সরকারি মদতে এটা সম্ভব!
কয়লা উত্তোলনের জন্য ছত্তিশগড়ে রায়গড় জেলার ২৫৮৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এই জমির মধ্যে রয়েছে ২১৫ হেক্টর বনভূমি। আনুমানিক ৬৫৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা পাওয়া যাবে এখানে। আর এই কয়লা ব্যবহার হবে মহারাষ্ট্রের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আদানিদের অধীন। মহাজেন কো-নামের এই কোম্পানির জন্য ছত্তিশগড়ে বনভূমি সাফ করার কাজ চলছে। স্থানীয়দের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে গাছ কাটা শুরু হয়। ১৪টি গ্রাম প্রভাবিত হয়েছে এই কয়লা প্রকল্পের জন্য। মানবাধিকার সংগঠন ‘ছত্তিশগড় অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিস অ্যান্ড ইকুয়ালিটি’ এক প্রেস বার্তায় জানিয়েছে ২৬ জুন প্রায় দু’হাজার পুলিশ এবং মহাজেনকোর-কর্মীরা গ্রাম ঘিরে ফেলে। যেসব পরিবেশবিদ প্রতিবাদ করছিলেন তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক বিদ্যাবতী সিদার, প্রখ্যাত লেখিকা ও পরিবেশকর্মী রিনচিন প্রমুখ। বিভিন্ন থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য এখান থেকে কয়লা সরবরাহ করা হবে। ৭,৬০০ কোটি টাকার এই প্রজেক্টে ১৭০০ পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়বে। আর সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে আদিবাসীদের জীবনপ্রবাহ। এতগুলি গাছ একসঙ্গে কেটে ফেললে পরিবেশেও তার প্রভাব পড়বে যথেষ্ট। কিন্তু কেন্দ্র ও দু’টি রাজ্যের বিজেপি সরকার আদানিদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রীবৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ায় অন্য কিছুই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না। বনবাসীদের জীবন জীবিকা রক্ষা কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে চিন্তিত নয় বিজেপি সরকার।
এই সব এলাকায় এক সময় মাওবাদীরা সশস্ত্র আন্দোলন করত বনভূমি রক্ষায়। যার ফলে অরণ্য ধ্বংসের চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযান চালিয়ে তাদের প্রায় নিকেশ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এই জন্যই কি কেন্দ্রের এবং রাজ্যের বিজেপি সরকার মাওবাদীদের খতম করতে এত উদ্যোগী হয়েছে। নয় তো এত দিন ধরে এই এলাকাগুলি মাওবাদী প্রভাবিত থাকলেও কেন্দ্র এমন মরনপণ অভিযান আগে চালায়নি। ২০১৭ সাল থেকে এই বনভূমি রক্ষার জন্য আন্দোলন করে চলেছেন বনবাসী ও আদিবাসীরা। কিন্তু বনবাসীদের জীবন জীবিকা রক্ষা কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে চিন্তিত নয় বিজেপি সরকার। ১৪টি গ্রামের গ্রাম-পঞ্চায়েতের কেউই এনওসি দেয়নি জঙ্গল সাফ করার জন্য, তবুও জোর করে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ফরেস্ট রাইট অ্যাক্ট ২০০৬-কে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করা হচ্ছে। সবই চলছে সরকারী মদতে সরকারের দ্বারা।
