অচ্ছুৎ

 দীপক জানা ##



দোলে। অল্প বাতাসেই। খাঁচাটা। সুন্দর করে গোছানো। পরিপাটি। খাঁচাটার কক্ষ অনেক। মনে করা যাক এটা খাবার ঘর। ওটা খেলার। এই এটা, অন্য পাখিরা এলে আলাপচারিতার। আর এই যে বিশ্রাম নেওয়ার।


পাখিটা দানা খায়। ফল খায়। জলও। দরজায় সতর্ক শিক। একটা, দুটো, তিনটে। বেশ মজবুত খাঁচা। লোহা না, অন্য এক মিশ্র ধাতুতে তৈরি। দুলছে। পাখিটা। টিয়া নয়। টিয়ার মতই। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, কালো। বড্ড শয়তান। একটু ফাঁক পেলেই…। বাতাস ওঠে খুব। দুষ্টু ছেলেরাও খাচাটা খুলে দিতে পারে। চেতন বা অচেতনে আপনিও। রাগে। ঘৃণায়। আসলে পাখিটার একঘেঁয়ে ডাক। ছটফটানি। চিৎকার। হাহাকারও। আপনাকে বিরক্তির চরম শিখরে নিয়ে যেতে পারে। কিংবা এই খাঁচা। রাখারও জায়গা চায়। বায়না মেটানো চায়। বায়না কি একটা? সময়ে সময়ে নানা। পাখিটার ও বিস্তার চাই। তাই-ই সঙ্গী। এই পাখির জন্যই খাঁচার মান- অভিমান- রাগ- গোঁসা। তাই তার এতো যত্নআত্তি। তোষামোদ, খোশামোদ। নিত্যনতুন রঙচঙ, সাজ-পোশাক।


পাখিটা উড়ে গেল। একদিন। শূণ্য খাঁচা একপাশে। অচ্ছুৎ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 5 =