কেশবতী রাজকন্যে

রূপকথার সেই রাজকন্যের কথা মনে আছে? দোতলায় থাকা সেই রাজকন্যার চুল জানালা দিয়ে এসে পড়েছিল নিচে পর্যন্ত। ওই চুল বেয়েই তো রাজপুত্র উঠে এসেছিল রাজকন্যার কাছে। এটা গল্প হলেও বাস্তবে প্রায় এরকমই কেশবতী এক রাজকন্যের দেখা মিলেছে গুজরাটের মোদাসা শহরে। নীলাংশী প্যাটেল নামের ওই ষোড়শীর চুল একেবারে গোড়ালি পর্যন্ত। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা তার চুল। এ জন্যই ‘বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘকেশী নারী’ হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষকে দেওয়া নীলাংশীর সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘আমি ছোট থাকতে যখন একবার চুল কাটাতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম। আমার চুল এমনভাবে কেটেছিল তারা, যা দেখে খুব বিরক্ত হয়েছিলাম। নিজের চুল দেখে রাগ হয়েছিল আমার। তারপর থেকেই চুল কাটানো বন্ধ করে দিই। এরপর আর কোনদিন আমি চুল কাটাই নি।’ ছোটবেলার তিক্ত অভিজ্ঞতাই নীলাংশীকে  গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ নাম তুলতে সাহায্য করেছে। একজন স্বাভাবিক মানুষের উচ্চতার চেয়েও তার চুল লম্বা।

লম্বা চুলের জন্য নীলাংশীর বন্ধুরা ভালবেসে তাকে র‌্যাপানজেল বলে ডাকে। এত লম্বা চুল কি ভাবে সামলান এমন প্রশ্নের উত্তরে নীলাংশী বলেন, সপ্তাহে একবার চুলে শ্যাম্পু করেন তিনি। আর এত লম্বা চুল আঁচড়াতে সাহায্য করেন তার মা। চুল বিভিন্নভাবে সাজাতেও পছন্দ করেন তিনি। স্টাইল করতে হলে লম্বা বেনী বা উঁচু করে খোঁপা বাঁধেন তিনি।

রাজকুমারী র‍্যাপানজেলের মতো তার জাদুকরী ক্ষমতা না থাকলেও এ চুল নিয়েই তিনি টেবিল টেনিস খেলেন। খেলায় সাফল্যের দেখাও পেয়েছেন। নীলাংশীর মতে, এত লম্বা চুল নিয়ে সত্যিই কোনও সমস্যা হয় না তার। এই চুল তার কাছে লাকি চার্ম।

 

 

One thought on “কেশবতী রাজকন্যে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *