চৌদল


সঞ্জীব সেন ##

ওরাও এসেছিল চৌদল ভাসাতে। পাশাপাশি দুই পরিবার আর সম্পর্কও বেশ ভাল। কৌশিক আর সুপর্ণা দুজনাই পিঠাপিঠি বেড়ে উঠেছে। আজ ওরা ষোল বছরে পড়েছে। সুপর্ণার বড়িতে মানত ছিল কংসাবতীর জলে স্নান করে চৌদল ভাসাবে। শীতকাল জল বেশ ঠান্ডা। সুপর্ণা স্নান করে গাছের আড়ালে কাপড় ছাড়ছিল। কৌশিকের চোখ গেছিল যতটুকু দেখা যায় শরীরের নগ্ন পিঠ ভিজে চুল পায়জামা। কৌশিক এগিয়ে গিয়েছিল গাছের কাছে অজান্তেই। আবিস্কার করেছিল সুপর্ণা এক পূর্ণ  নারী। দুই পরিবার চৌদল ভাসানোর কাজে ব্যস্ত ছিল কেউ খেয়াল করেনি। সুপর্ণা কৌশিক এর দিকে ফিরে ছিল  তখন ওর অনাবৃত শরীরের দিকে তাকিয়ে ছিল একদৃষ্টিতে। সুপর্ণা বলেছিল তুই এখানে এসেছিস কেন? যা  ওদিকে, যা সবাই দেখলে কি ভাববে বলত বোকা ছেলে একটা, মেয়েদের এভাবে দেখতে আছে ! হলুদ রঙের একটা শাড়ি পরে তৈরী হয়ে নিয়েছিল দ্রুত। শঙ্খ উলুধ্বনিতে চৌদল ভাসিয়ে ছিল। সেদিন কৌশিক দেখেছিল শুধু সুপর্ণাকেই। টুসু মেলায় পাখির দোকান থেকে দুটো মুনিয়া পাখি কিনে দিয়েছিল। সুপর্ণা পাখি দুটোকে ছেড়ে দিয়ে ছিল আকাশে। বলেছিল দেখ কি সুন্দর উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশে। এইভাবে কেউ বন্দী করে রাখে। কেটে গেছে কুড়ি বছর। আজও এসেছে কংসাবতী নদীর ধারে টুসু মেলায়। দুই পরিবারের কেউ নেই আজ। ওদের বিয়েও হয়নি, দুই পরিবারের কথা নেই অনেকদিন। এসেছিল কৌশিক আর মীনাক্ষী । কৌশিকের সাথে বিয়ে হয়েছে ওর। আর সুপর্ণার বিয়ে হয়েছে অরন্যর সাথে। ওরা থাকে কলকাতায়। কৌশিক পাখির দোকানের মুনিয়া পাখির খাঁচার দিকে চেয়েছিল। গাছের আড়ালেও কেউ ছিল না। তবুও চোখ খুঁজেছিল। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × three =