স্বস্তি

কৃপাণ মৈত্র, সুহাতা, পূর্ব মেদিনীপুর ##


দুশ্চিন্তায় বিধাতার কপালে ভাঁজ।তিনি কোনভাবেই স্বস্তি পাচ্ছেন না।কিন্তু তাঁর তো মনোবিকার শোভা পায় না।সৃষ্টি যে উথাল পাথাল হয়ে যাবে । শয়ন,স্বপন,জাগরণ সবকিছুই এখন তার কাছে  আতঙ্ক। এমনটা তো হবার কথা নয়। সন্তানের  কষ্ট পিতাকে ছোঁবে না এ কেমন  অঈশ্বরীয় কাণ্ড!

      নারদ কখন পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন বিধাতার হুশ নেই।আজকাল অবশ্য এমনটাই হচ্ছে। নারদ ত্রিলোক ঘুরে বেড়ান।সব হাঁড়ির খবর তাঁর নখের ডগায়।তবুও একটা ভূমিকা করে তিনি বিধাতাকে জিজ্ঞাসা করলেন, প্রভূকে যে বড় চঞ্চল দেখছি!

       বিধাতা চমকে উঠলেন।এ তো অন্তরের বাণী নয়। তিনি নারদের দিকে ফিরলেন।সদাহাস্যময় নারদকে দেখলে তাঁর হিংসে হয়। (যদিও বিধাতার হৃদয়ে হিংসা থাকার কথা নয় )

    বিধাতা আমতা আমতা করে বললেন, না তেমন কিছু নয়।

    বিধাতা ভালোই জানেন এভাবে নারদকে ফাঁকি দেওয়া সহজ নয়।

      নারদ বললেন , তেমন কিছু নয় , বললে হবে কেন।

       -আসলে কি জান…

    উত্তর দিতে গিয়ে বিধাতা থামলেন।

      নারদ এর মুখে দুষ্টুমির মুচকি হাসি।বড্ড বিপজ্জনক।আয়নার মতো গভীর জল যেন ।রহস্যের কারাগার ।

   বিধাতা একটা ছোট্ট ঢোঁক গিলে বললেন, আসলে কি জান -…

   – সৃষ্টি বড্ড পীড়া দিচ্ছে।এই তো।

     বিধাতার চুপ করে রইলেন ।কষ্টটা ভাগ করে নিতে পারলে যন্ত্রণা লঘু হয় ।

    বিধাতা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন ,পৃথিবীটা একেবারে বন্দিশালা হয়ে গেছে ।আর আশ্চর্যের কথ কি জানো, মানুষ স্বজাতকে গিলছে। একেবারে আস্ত ।

    নারদ বললেন, এর জন্য তো আপনি দায়ী।

       নারদকে থামিয়ে দিয়ে বিধাতা বললেন, কেন কেন এ কথা বলছ কেন ?

      সৃজন তত্ত্বে সমতা কোথায় ? লোভ রীপু তো আপনার থেকে।

     বিধাতা ভ্রু কুচকালেন ।

      নারদ বললেন, দেবতা অমৃত চাখলে, খুব ভালো কথা। মানুষ যার  কিনা দেবতা  এবং অসুরের মাঝখানে স্থান সে কেন ছাড়বে! সে তো ডালেরও চাইবে আবার গোড়ারও খেতে চাইবে।

         বিধাতা এখন হাত কচলাচ্ছেন।কেন তিনি অমৃতের অনুমতি দিলেন ।

       বিধাতা হাত কচলে বললেন, যা হবার সে তো হয়ে গেছে, এখন কি করতে পরামর্শ দাও ।  

 –   ওদেরকে ওদের মতো লড়তে দেন।এক জীবদ্দশায় ওরা অমৃত এবং গরল দুই পান করুক। আর  বুক ফুলিয়ে বলুক “অমৃতের সন্তান” । সুখ দুঃখ জরা ব্যাধি মুখ টিপে হাসুক। আসল কথা কি জানেন ,আপনার সেরা সৃষ্টি দেবতা নয়,  মানুষ।

      বিধাতা স্বস্তিতে চোখ বুজলেন। অন্তঃসলিলা ভোগবতীর স্বর্ণকমলের রেণু তার দু’চোখের পাতায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *