আকর্ষক উইন্ডোজ ১০

জুলাইয়ের ২৯ তারিখ মুক্তি পেতে চলেছে মাইক্রোসফটের বহুল আলোচিত উইন্ডোজ ১০। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় উইন্ডোজ হতে চলেছে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট। একে ডাউনলোড করতে প্রস্তুত হয়ে আছেন সবাই। তবে অরিজিনাল উইন্ডোজ ১০ পেতে কয়েকটি বিষয়ে আপনার প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। সেগুলো একটু জেনে নেওয়া যাক।

সকলের জন্য এটি ফ্রি ডাউনলোডের ব্যবস্থা থাকছে। তবে সে ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে।উইন্ডোজ ১০ পেতে গেলে আপনার কম্পিউটারে উইন্ডোজ ৭, ৮ বা ৮.১ থাকতে হবে। যদি এগুলো না থাকে তবে বেসিক হোম ইউজার প্যাকেজের জন্যে ১১৯ ডলার খরচ করতে হবে। ২০১৬ এর জুলাই পর্যন্ত ফ্রি ডাউনলোডের ব্যবস্থা থাকবে। তবে এখনোও পর্যন্ত এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি মাইক্রোসফট।

কিভাবে বুঝবেন আপনার কম্পিউটারে চলবে কি না? মাইক্রোসফটের রয়েছে ‘গেট উইন্ডোজ ১০’ নামের একটি অ্যাপ। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হবে, যদি পিসিতে ৮সিস্টেম থাকে। আর উইন্ডোজ ৭ চললে ডাউনলোডের জন্যে না ১০ রিকমেন্ড করা হবে। অ্যাপটি পরীক্ষা করে দেখবে আপনার পিসিতে এটি চলবে কিনা।

যেভাবে ডাউনলোড করবেন : ‘গেট উইন্ডোজ ১০’ অ্যাপটির মতোই উইন্ডোজের শেষ দুটি সংস্করণের ডেস্কটপ থেকে নতুন উইন্ডোজটি ডাউনলোড করা যাবে। টাস্কবারে উইন্ডোজের আইকনে ক্লিক করলে একটি মেনু আসবে। সেখানে ডাউনলোডের একটি কপি আসবে।

এটা ডাউনলোড করা উচিত? : সাইবার সিকিউরিটির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সব সফটওয়্যারের সর্বসাম্প্রতিক সংস্করণ ব্যবহার করা উচিত। উইন্ডোজ ১০ আসবে আগের সব সমস্যার সমাধান নিয়ে। টাচস্ক্রিন ডেস্কটপ যাদের নেই, তারাও স্টার্ট মেনু পাচ্ছেন এতে। প্রশ্নের জবাব ও নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট কর্টানা থাকছে এতে।

মাইক্রোসফটের ইকোসিস্টেম ডিভাইসের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় আকর্ষণ রয়েছে এতে। এখানে ‘ভার্চুয়াল’ ডেস্কটপের পরিচয় পর্ব থাকছে। কয়েকটি মনিটর যারা ব্যবহার করবেন তাদের কাজে লাগবে এটি।

উইন্ডোজ ১০-এর নজরকাড়া কিছু নতুন ফিচার

উইন্ডোজ ১০-এ থাকছে কয়েকটি নতুন ফিচার।
১. কন্টিনিউয়াম ফিচার
কন্টিনিউয়াম ফিচারতি অপারেটিং সিস্টেমের জন্য একবারে নতুন ও অত্যাধুনিক একটি ফিচার। উইন্ডোজ ১০-এর কন্টিনাম ফিচারটি কম্পিউটার ব্যবহারের সময় কি-বোর্ড, মাউস, নাকি স্ক্রিন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা চিহ্নিত করে ব্যবহারকারীর সামনে যথাযথ ইন্টারফেইস তুলে ধরবে।
২. কর্টানা
ভয়েস পাওয়ারড ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট কর্টানা এবার উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও আনছে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট। আগে শুধু উইন্ডোজ ফোন ৮.১ ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা পেলেও উইন্ডোজের পরবর্তী ভার্সনে এই সুবিধা যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।

৩. মিউজিক ও গেমসের সুব্যবস্থা
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, নতুন অপারেটিং সিস্টেমটিতে যেসব অ্যাপ ব্যবহৃত হবে তার অনেকগুলোই গেমিং কনসোল এক্সবক্স এবং বিভিন্ন মিউজিক স্ট্রিমিং সার্ভিস ও ডিভাইসে চলবে। এতে ব্যবহারকারীরা সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে হালনাগাদ থাকতে পারবেন।
৪. অ্যাপসt
সব ডিভাইসের জন্য এক উইন্ডোজের একই ভিত্তিতে আসছে ‘ইউনিভার্সাল অ্যাপস’ ফিচারটি। এই ফিচারে উইন্ডোজ স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যে কোনো অ্যাপ একইসঙ্গে সবগুলো ডিভাইসেই চলবে।
৫. ব্যবহারে সুবিধা
মাইক্রোসফটের নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সূচনা করল যেটা একই সাথে পিসি, ট্যাবলেট, বড়স্ক্রীন ফোন এবং মুঠোফোনেও ইনস্টল করা যেতে পারে। আর এই কারনেই উইন্ডোজ ১০ সার্বজনীন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে রয়েছে ব্যবহারকারীর বেশ কিছু নতুন অভিজ্ঞতা।
উইন্ডোজ ১০ এর স্টার্ট মেনুতে উল্লেহযোগ্য পরিবর্তন হচ্ছে উইন্ডোজ ৭ এবং ৮ এর সমন্বয়। এতে উইন্ডোজ ৭ এর মত যেমন সকল প্রোগ্রাম খুজে পাওয়া যাবে তেমনি উইন্ডোজ ৮ এর মত ইচ্ছেমত মেট্রো অ্যাপসসহ অন্যান্য অ্যাপসগুলোকেও সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা যাবে।
৬. অন্যান্য সুবিধাt
এর আগে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে মাল্টিপল ডেস্কটপ ব্যবহারের সুযোগ ছিল। এবার ‘উইন্ডোজ ১০’-একই সাথে একাধিক কাজ করার সুবিধার্থে যুক্ত হয়েছে ‘মাল্টি ডেস্কটপ ফিচার’। ‘উইন্ডোজ ৮’ ও ৮.১-এ ফিচারটি থাকলেও সেখানে সর্বোচ্চ দুটি পৃথক ডেস্কটপ তৈরি করা যেত। তবে ‘উইন্ডোজ ১০’ অনায়াসে চারটি কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী তারও বেশি ডেস্কটপ তৈরি করে একসঙ্গে একাধিক কাজ করা যাবে।
‘উইন্ডোজ ১০’ এর টাস্ক বারে ‘টাস্কভিউ’ নামের একটি আইকন রয়েছে যেখানে ক্লিক করলে মাল্টিপল ডেস্কটপ তৈরি হবে।

বর্তমানে উইন্ডোজ ৮ বা ৮.১ এর তুলনায় উইন্ডোজ ৭ ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। একটি অপারেটিং সিস্টেমে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে নতুন অপারেটিং সিস্টেমে যাওয়া অনেক ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য। তাই উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে উভয় সংস্করণের স্বাদ পাওয়া যাবে।
টাচনির্ভর উইন্ডোজ ডিভাইসের যাত্রা শুরু উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে। আগের টাচ ফিচারের বেশ কিছু বাগ বা ক্রুটি দূর করে একে সম্পূর্ণ গতিশীল এবং উন্নত মানের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে নতুন অপারেটিং সিস্টেমে। আঙ্গুলের স্পর্শের সাহায্যে জুম ইন, জুম আউট, স্ক্রল করা, মিনিমাইজ, ম্যাক্সিমাইজ ইত্যাদি করা যাবে খুব সহজে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *