খুশির সমাগমে জমজমাট অবেক্ষণ শিশু মেলা

বিজয় মুখোপাধ্যায় ##

আর পাঁচটা শিশু মেলার থেকে এই মেলা  একেবারেই আলাদা। অন্য শিশু মেলায়,  বড়দের হাত ধরে শিশুরা মেলায় যায়। কিন্তু এখানে শিশুরাই বিক্রেতা। তারাই তাদের হাতে তৈরি নানান খাবার বা অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করছে। বড়রা সেখানে শুধুই ক্রেতা বা দর্শক। ১৪ নভেম্বর, শিশুদিবস উপলক্ষে, অবেক্ষণ নাট্য সংস্থা এবং অবেক্ষণ পত্রিকার উদ্যোগে সম্প্রতি একটু অন্য রকমের এই শিশু মেলা  অনুষ্ঠিত হল  উত্তর চব্বিশ পরগনার গোবরডাঙ্গায়। শিশু মেলা উপলক্ষে স্থানীয় বাবুপাড়া সম্মিলনী ক্লাবের মাঠ ছিল জমজমাট। কচি হাতের তৈরি ফুচকা, ঝালমুড়ি, ঘুগনি, আলু কাবলির মত সনাতনী খাবার যেমন ছিল, তেমনই ছিল চিজ বার্গার, কাপ কেক এর মত বিলিতি খাবার দাবার। বাদ ছিল না ইডলি, দই বড়া, চা বা কফিও। মাত্র ১০ টাকায় এক প্লেট চিকেন পকোড়া, চিলি চিকেন বা পাটিসাপটা। ২০ টাকায় এক প্লেট পোলাও অথবা চিংড়ির বিরিয়ানি, ভাবা যায়? তাই তো দিয়ে কুল করতে পারছিল না ক্ষুদে বিক্রেতারা। এখানেই শেষ নয়, নানা ধরনের হাতের কাজ নিয়েও মেলায় বসেছিল কচিকাঁচারা। অসাধারণ সেই শিল্পকর্মও প্রশংসা কুড়িয়েছে সকলের। সেগুলির বিক্রিও মন্দ হয়নি।

 মেলা চত্বরে আয়োজন করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। ছোটরা সেখানে নানা রকম সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকা মাতিয়ে রেখেছিল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিচালনায় ছিলেন সৌমী মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণেই বসেছিলেন দন্ত চিকিৎসক ডাঃ শুভজয় রক্ষিত, তিনি বিনা মূল্যে এদিন মেলায় আগত শিশুদের দাঁত পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। 

অবেক্ষণের সম্পাদক পলাশ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যান্ত্রিক জীবন থেকে সামান্য দূরে সরিয়ে ছোটদের নির্মল আনন্দ দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি এই মেলা শিশুদের স্বনির্ভরতা এবং সামাজিক চেতনার পাঠও দেবে।  মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা বিজয় মুখোপাধ্যায়, রাজিত কর্মকার বা বিশ্বনাথ দাস, সৌমী মুখোপাধ্যায়  সকলের গলাতেই একই সুর,  ছোটদের মুখের নির্মল হাসিই এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব প্রমাণ করে দিয়েছে। ছোটদের উৎসাহ দিতে হাজির ছিলেন বড়রাও। কাঁচা হাতে তৈরি চা অথবা কচি হাতে তৈরি ঝালমুড়ি, ঘুগনি, বড়রা কিন্তু ছাড়েননি কোনটাই।  সকলেই জানিয়েছেন এমন  মেলার ক্রেতা হিসেবে যথেষ্ট খুশি তারা। মেলা শেষ হলেও আসছে বছর আবার হবে এই অঙ্গিকার নিয়েই মাঠ ছাড়েন সকলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × four =