বিশ্বজুড়ে নগ্ন রেস্তোরাঁ

 

প্রকৃতিপ্রেম বা রোমান্টিকতার জন্য বিশ্ব জুড়ে প্যারিসের সুনাম রয়েছে। সারা বছরই বিভিন্ন দেশ থেকে বহু পর্যটক আসেন এ ভালোবাসার শহরে। মাস দুয়েক আগেই নগ্ন পার্ক খুলে সাড়া ফেলে দিয়েছিল ফ্রান্সের রাজধানী এই শহর। তবে, এবার রেস্তোরাঁয় খাওয়ার একটাই শর্ত। হতে হবে নগ্ন।

O’Naturel নামে একটি রেস্তোরাঁ খোলা হয়েছে প্যারিসে। খাবার খাওয়ার আগে নগ্ন হয়ে তবেই খেতে বসতে হবে সেখানে। প্রাকৃতিক রেস্তোরাঁর আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এটিকে।

ইতোমধ্যেই ওই রেস্তোরাঁর ফেসবুক পেজে ছবি আপলোড করা হয়েছে। এর আগে ‘বইস দে ভিনসেন্স’ নামে একটি পার্ক খোলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে নগ্ন হয়ে ঘোরার জন্য।

একসঙ্গে ৪০ জন বসে খেতে পারেন এই রেস্তোরাঁয়। খাবারের দাম শুরু ২০০০ টাকা থেকে। কেউ যখন রেস্তোরাঁয় ঢুকবে জামাকাপড় খুলে রেখে দিতে হবে ওয়াড্রোবে।

তবে রেস্তোরাঁর ভিতরে থাকা কাউকেই দেখতে পাবেন না বাইরের লোকজন। নতুন এই কনসেপ্ট ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন স্থানীয় মানুষ।

এর আগে নগ্ন হয়ে খাওয়ার এমন রেস্তোরাঁ আর দেখা যায়নি। স্পেনের টেনেরিফ দ্বীপপুঞ্জের একটি রেস্তোরাঁয় নগ্ন শরীরের উপর খাবার পরিবেশন করা হয়।

এই রেস্টুরেন্টে যারা খাবার খেতে যাবেন তাদের কেউ পোশাক পরতে পারবেন না। পোশাক ছাড়া নগ্ন শরীরে যেতে হবে ওই হোটেলে। যে সব সুন্দরী নারীরা খাবার পরিবেশন করবেন, তারা যেমন নগ্ন হয়ে থাকবেন, তেমনই যারা আসবেন এবং খাবেন, তাদেরও নগ্ন থাকতে হবে। অথচ কি আশ্চর্য, সেই আজগুবি রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান ক্রেতা রয়েছেন ৪৬ হাজার। তাই আপনি চাইলেই যখন তখন সেখানে খেতে যেতে পারবেন না।

সম্প্রতি লন্ডনে এমনই এক আজগুবি রেস্টুরেন্ট চালু করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টটির নামকরণ করা হয়েছে ‘দ্য বুনিয়াদি’। বাংলা ‘বুনিয়াদি’ শব্দের একটি অর্থ ‘প্রাচীন ও সম্ভ্রান্ত’। নামের দিক থেকে রেস্তোরাঁর নামকরণ যথার্থ হয়েছে। কেননা, এই রেস্তোরাঁয় সবাইকে সম্পূর্ণ নগ্ন শরীরে খেতে বসতে হবে।

রেস্তোরাঁয় একটি কড়া নিয়মও রয়েছে। সেখানে কেউ ক্যামেরা তো দূরের কথা, মোবাইল ফোন পর্যন্ত কাছে রাখতে পারবেন না। ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ক্রেতাদের সম্মানের কথা মাথায় রেখেই এমন কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে রেস্টুরেন্টটিতে সম্প্রতি দুই সাংবাদিক গিয়ে সেখানকার ক্রেতা, মালিক, ওয়েটার ও বাবুর্চিদের সঙ্গে কথা বলে কিছু ছবি তুলে আনে। পরে ছবিগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। নগ্ন রেস্তরাঁর সেই সংবাদ ও ছবি মিডিয়ায় আসার পর তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। অবশ্য ওই দুই সাংবাদিককেও সেখানে ঢুকতে হয়েছিল নগ্ন হয়েই।


নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ওই দুই সাংবাদিক জানান, রেস্টুরেন্টে প্রবেশের পরেই ক্রেতাদের একটি কক্ষে নিয়ে তাদের হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয়। ওই কাগজে উল্লেখ করা হয়েছে, এখানে নগ্নতাকে স্বাগত জানানো হলেও যৌনতা নিষিদ্ধ। সেই ঘরেই বাইরের পোশাক ছেড়ে পরতে দেওয়া হয় একটি সাদা গাউন। চাইলে সেই গাউন ও সাদা নরম চটি পরে খেতে পারবেন ক্রেতারা। আবার কেই চাইলে নগ্ন হয়েও খাবারের টেবিলে বসতে পারবেন।

তাহলে কেন এমন রেস্তোরাঁ চালু করা হলো? মূল সত্যটি অবশ্য জানিয়েছে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। “এখানে সবকিছুই আদিম। ঝলসানো খাবার, কাঠের গুড়িতে তৈরি বসার জায়গা, বাঁশের তৈরি ঘর, হাতে তৈরি মাটির থালা–বাটি। খাওয়ার সময়ও ক্রেতা যাতে সেই আদিমতার পরিবেশটা উপভোগ করতে পারেন, সেই জন্যেই তাদের নগ্ন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।”  তবে সম্প্রতি রেস্টুরেন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিজেদের ওয়েবসাইট মারফৎ বুনিয়াদি কতৃপক্ষ জানিয়েছেন তারা ফের ওই রেস্টুরেন্ট চালু করবার কথা ভাবছেন।

২০১৬ ২৯ জুলাই জাপানেও খুলেছ নগ্ন রেস্টুরেন্ট। তবে যুক্তরাজ্যের চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম জাপানের রেস্টুরেন্টটি। ঢুকতে গেলে অবশ্যই পাতলা বা রোগা হতে হবে আপনাকে।

জাপানের প্রথম নগ্ন রেস্টুরেন্টটির নাম অমৃত। ব্রিটেনের মতো জাপানের রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে হলে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে ঢুকতে হবে না। পাতলা কাগজের জামা পরে ঢুকতে হবে সেখানে।

অমৃতর ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, উচ্চতা অনুযায়ী ১৫ কেজির বেশি ওজন হলে ঢুকতে দেওয়া হবে না সেখানে। অর্থাৎ ঢুকতে হলে অবশ্যই হতে হবে চিকন ও সঠিক স্বাস্থ্যের।

বয়সের দিকেও রয়েছে কিছু বর্ধিত নিয়মাবলী। ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে বয়স।

রেস্টুরেন্টে যাওয়া ভোক্তারা ফোনের মাধ্যমে বুকিং দেবেন এবং ভেতরে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো ভোক্তার শরীরে হাত দিতে পারবেন না।

রেস্টুরেন্টের ভেতরে ওয়েটার হিসেবে থাকবে আকর্ষণীয় পুরুষেরা। সেখানে তারা নেচে গেয়ে ভোক্তাদের বিনোদন দেবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *