“স্বপ্নের শহর গোবরডাঙা”-র অন্যরকমের উদ্যোগ

বিজয় মুখোপাধ্যায়, গোবরডাঙা, উত্তর ২৪ পরগনা ##

সার দিয়ে ঝোলানো আছে জামা কাপড়। যে যার প্রয়োজন মত নিয়ে যেতেই পারেন সেখান থেকে। কেউ প্রশ্ন তো করবেনই না, ফিরেও তাকাবেন না। এ কোনও দোকানের ছবি নয়। এমন ছবির দেখা মিলবে উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। এই জামা কাপড় রাখা তাদের জন্যই যাদের এগুলি প্রকৃতই প্রয়োজন। লকডাউনের সৌজন্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় জামাকাপড় দেওয়ার কাজ প্রায় বন্ধ। তাই স্থানীয়দের জন্য এমন জনমুখী উদ্যোগ গোবরডাঙার একটি সংস্থার।

 “স্বপ্নের শহর গোবরডাঙা” নামে ফেসবুক গ্রুপটি চুপিসাড়ে করে চলেছে এমন নানা সামাজিক কাজ।  অনেক ফেসবুক গ্রুপ বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাই এমন করে থাকে। কিন্তু স্বপ্নের শহর গোবরডাঙা গ্রুপের এই কাজটি বিশেষ নজরে এসেছে কারন এই কাজের মধ্যে তারা প্রচার বিমুখতার একটা দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছে। অন্যরা যখন সামান্য দান ধ্যান করেই তার ছবি তুলতে ব্যস্ত তখন গোবরডাঙার এই গ্রুপ এই জামা কাপড়গুলি ঝুলিয়ে রেখেছে রাতের বেলাতেও। যাতে যাদের প্রয়োজন তারা যাতে রাতের অন্ধকারে বিনা সঙ্কোচে তা নিয়ে যেতে পারেন অন্যের দৃষ্টি এড়িয়ে। কাজও হয়েছে ক্রমশ কমেছে জামাকাপড়ের সংখ্যা। ফের গ্রুপের কর্মীরা নতুন জামা কাপড় যোগাড় করে এনে ঝুলিয়ে দিয়েছে প্ল্যাটফর্মের বেড়ায়।    

মানুষের কাজে লাগছে দেখে খুশি “স্বপ্নের শহর গোবরডাঙা”-র সদস্যরা। এই গ্রুপের অন্যতম অ্যাডমিন মাণিক ঘোষের গলাতেও ধরা পড়ল সেই তৃপ্তির সুর।“ ১৯৯৯ সাল থেকে চলছে আমাদের এই কাজ…… যা প্রথম শুরু হয় রেনেসাঁসের মাধ্যমে, যেগুলি বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এখন বিভিন্ন এলাকার মানুষের বাড়ি থেকে আমরা খুব ভালো মানের পুরাতন জামা কাপড় কালেকশন করি। কেউ একবার দুবার পরেছে, তো কেউ কেনার পর পরেইনি। এরপর এগুলি নিয়ে আমরা চলে যাই বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে। লকডাউন চলার জন্য আপাতত এই কর্মসূচি বন্ধ আছে। ফলে আমরা ঠিক করলাম, গোবরডাঙা প্লাটফর্মেই কিছু জামা কাপড় ঝুলিয়ে রাখবো। সেই মতোই শুরু হলো কাজ, এতে কারোর প্রয়োজন সামান্য হলেও মিটছে দেখে খুশি আমরা সকলেই।”

বৃক্ষরোপণ থেকে শুরু করে গাছের গায়ে থাকা পেরেক নিষ্কাশন, ঝড়, বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো, করোনা পর্বে গোবরডাঙা এবং তার আশপাশের এলাকার মানুষদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করা সহ নানাবিধ সামাজিক কাজ করে চলেছে এই ফেসবুক গ্রুপ। আগামী দিনেও তারা মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন যে কোনও শর্তে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *